◾৩ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আতাত, উন্মুক্ত টেন্ডার বন্ধের অভিযোগ
এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত কোল পাওয়ারের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক আব্দু ছালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন। একই অভিযোগ তুলেছেন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থানীয় সাব-ঠিকাদারও।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। চাকরির আড়ালে তারা নিজেরাই ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এতে প্রকল্পের কাজ থেকে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্ভিসিং কার্যক্রমের জন্য শর্তসাপেক্ষে মাত্র তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ তিনটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ টেন্ডারে অংশ নিলেও তা গ্রহণযোগ্য করা হয় না। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের আতাতের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে, সেগুলো হলো— ইস্পাত বিল্ডিং অ্যান্ড টেকনোলজি, পল্লবী, ঢাকা; মোহনা ইন্টারন্যাশনাল, মাতারবাড়ী; লেভেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেড, মতিঝিল, ঢাকা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কোটি কোটি টাকার টেন্ডারের কাজ কেবল এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই পেয়ে থাকে, যা নজিরবিহীন। এতে করে স্থানীয় ঠিকাদাররা সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ঢাকা ভিত্তিক কিছু চাকরিজীবী কর্মকর্তা চাকরির পাশাপাশি সিন্ডিকেট করে পুরো প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করলে এটি দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হবে। সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল করে উন্মুক্ত টেন্ডার চালু হলে প্রকল্পে বিপুল অর্থ সাশ্রয় সম্ভব বলে তাদের মত।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদের একক ক্ষমতার সময় থেকেই বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি কাঠামো গড়ে ওঠে। তার সময় নিরাপত্তায় নিয়োজিত কয়েকজন সিকিউরিটি অফিসারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা চোর সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে স্ক্র্যাপসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির অভিযোগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যায় বলে দাবি স্থানীয়দের। একটি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, তাদের নজরদারিতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্যাবল উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনটি কন্টেইনারে থাকা ওই ক্যাবল পাচারের সময় নৌবাহিনীর টহল দল সংশ্লিষ্টদের আটক করে। ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ৩১ আগস্ট সকালে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরে একটি বার্জে করে মালামাল জাহাজে তোলার সময়।
এ বিষয়ে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের সিকিউরিটি অফিসার হাসান বলেন, “এসব বিষয়ে আমি অবগত নই। এসব বিষয় ঢাকা অফিস দেখভাল করে। আমাদের দায়িত্ব শুধু গেইট চেক করা।”
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল এবং উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
