এম.এ.কে. রানা, মহেশখালী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ১২ হাজার ২৯১ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার রয়েছেন ৪ হাজার ৫০৩ জন এবং পোলিং অফিসার ৭ হাজার ৭৪৮ জন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান জানান, জেলার চার আসনের ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রের জন্য এসব কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা হবে।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। চকরিয়ায় ২২ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৯৪০ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১৪৭ জন পোলিং অফিসার প্রশিক্ষণ নেন। পেকুয়া উপজেলায় ৪৭টি ভোটকেন্দ্রের জন্য ৩৬৭ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৬৩৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে ২৫ জানুয়ারি।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে ২৬ জানুয়ারি থেকে। মহেশখালী উপজেলার ৮৬টি কেন্দ্রে ৬৬৬ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ১৫১ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কুতুবদিয়া উপজেলার ৩৮টি কেন্দ্রে ২৬৬ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৪৫২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এ আসনের প্রশিক্ষণ চলবে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।
কক্সবাজার-৩ (ঈদগাঁও–কক্সবাজার সদর–রামু) আসনে প্রশিক্ষণ শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ২ ফেব্রুয়ারি। ঈদগাঁও উপজেলার ৩৬টি কেন্দ্রে ২৬৫ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৪৫৪ জন পোলিং অফিসার, কক্সবাজার সদরের ৮২টি কেন্দ্রে ৬০১ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ২৯ জন পোলিং অফিসার এবং রামু উপজেলার ৬৪টি কেন্দ্রে ৪৮৮ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৮৪২ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি। উখিয়া উপজেলার ৫৪টি কেন্দ্রে ৪৩৯ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৭৬৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। টেকনাফ উপজেলার ৬১টি কেন্দ্রে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৭১ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৮১৫ জন পোলিং অফিসার।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, প্রতিটি উপজেলায় নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আচরণবিধি বাস্তবায়নে দুইজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুইটি ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হবে—একটি সংসদ নির্বাচন এবং অপরটি গণভোটের জন্য। জেলার চারটি আসনের ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রের ৩ হাজার ৬৮৯টি ভোটকক্ষে প্রায় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ভোটারের ভোট গ্রহণ করবেন এসব কর্মকর্তা।
