এম.এ.কে.রানা::
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শিব চতুর্দশী পূজা ও ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মেলা শুরু হচ্ছে কাল।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এই মেলা চলবে টানা সাত দিন। পূজা ও শিব দর্শন কার্যক্রম চলবে সোমবার রাত পর্যন্ত।
মহেশখালীর ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দির ও মৈনাক পাহাড়কে ঘিরেই মূল আয়োজন। শিব চতুর্দশী পূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণ ও পাহাড়ের পাদদেশে সৃষ্টি হয়েছে এক বিশাল মিলনমেলা। হাজার হাজার পূজারি, ভক্ত ও দর্শনার্থীর আগমনে পুরো এলাকা এখন উৎসবমুখর।
প্রায় দুই শতাধিক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই আদিনাথ মেলা শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিণত হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীকে। প্রতি বছর শিব চতুর্দশী উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানসহ কয়েকটি দেশের ভক্ত ও পর্যটকরা এখানে সমবেত হন। ফাল্গুন মাসের শুরুতে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে দেবাদিদেব মহাদেব শিবের আশীর্বাদ লাভের আশায় ভক্তরা উপবাস পালন, শিবলিঙ্গে জল ও বেলপাতা অর্পণ এবং বিশেষ পূজা-অর্চনায় অংশ নেন।
ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশ থেকে আগত পূজারি ও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মৈনাক পাহাড়ের চূড়া। মেলাকে কেন্দ্র করে বসেছে নানা ধরনের দোকান, ধর্মীয় সামগ্রী, মিষ্টান্ন, খেলনা, হস্তশিল্প ও স্থানীয় খাবারের পসরা। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে নাগরদোলা ও নানা বিনোদনমূলক আয়োজন।
পূজা ও মেলাকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ২০২৬ সালের মেলা কমিটি ও প্রশাসন। মন্দির এলাকা ও আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল, অস্থায়ী শৌচাগার, আলোকসজ্জা ও ভক্তদের থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
শ্রী শ্রী শিব চতুর্দশী পূজা ও মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন কান্তি দে (কাউন্সিলর) বলেন, “প্রতিবছরের মতো এ বছরও শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত পূজারি ও ভক্তদের থাকার ও সেবার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মহেশখালী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, আদিনাথ মেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পুলিশের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে। মন্দির এলাকা, পাহাড়ি পথ ও মেলা প্রাঙ্গণে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে শ্রী শ্রী শিব চতুর্দশী পূজা ও আদিনাথ মেলা ঘিরে মহেশখালী এখন পরিণত হয়েছে ধর্মীয় উৎসব, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনমেলার এক প্রাণবন্ত কেন্দ্রবিন্দুতে।
