Saturday, 13 June, 2026

এম.এ.কে. রানা, মহেশখালী
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর শুরু হলেও মাতারবাড়ীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন কাজ এখন স্থানীয়দের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। মাতারবাড়ীর নতুন বাজার নিউ মার্কেট থেকে সাইরার ডেইল প্রকল্পের ২ নম্বর গেট পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজ শুরু হয় প্রায় পাঁচ মাস আগে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা। কিন্তু কাজের অগ্রগতি দেখে স্থানীয়দের প্রশ্ন এই টাকার বিনিময়ে আসলে কী হচ্ছে?

মাতারবাড়ী ইউনিয়নের তিতা মাঝির পাড়া থেকে পুরান বাজার পর্যন্ত এলাকায় সড়ক কেটে, খুঁড়ে, ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কাজ শেষ না করেই অন্য স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করা হচ্ছে। ফলে পুরো বাজার এলাকা একপ্রকার বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ। পণ্য আনা-নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হেঁটে চলাচল করতে গিয়ে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

পুরান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতা নেই বললেই চলে। ধুলাবালি আর সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকার কারণে মানুষ বাজারমুখী হতে চাচ্ছে না। অনেক দোকানে দিনের পর দিন বিক্রি শূন্যের কোঠায়। কেউ কেউ দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই ক্ষতির দায় কেউ নিচ্ছে না।

সড়কের ওপর যত্রতত্র ফেলে রাখা বালু, পাথর ও রডের স্তূপ থেকে প্রতিনিয়ত উড়ছে ধুলা। এতে শ্বাসকষ্ট, চোখের জ্বালা, ত্বকের সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। রাতে পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নকশা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে না। কোথাও কোথাও প্রভাবশালীদের জায়গা বাঁচাতে সড়কের প্রস্থ কমানো হচ্ছে। ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সড়ক থেকে তোলা নিম্নমানের বালি। দীর্ঘ সড়কে একসঙ্গে ড্রেনের কাজ শুরু করলেও শ্রমিক রাখা হয়েছে হাতে গোনা কয়েকজন। এতে কাজের গতি অত্যন্ত ধীর।

জানা গেছে, প্রধান সড়কের কাজ করছে প্রাণ-আরএফএল সেন্টার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে সিএসআই নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকায় এক পক্ষের কাজ অন্য পক্ষের কাজকে ব্যাহত করছে। সচেতন মহলের মতে, এই সমন্বয়হীনতাই জনদুর্ভোগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। স্থানীয়দের দাবি, তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো লোক দেখানো কাজ করে যাচ্ছে। কমিশনের বিনিময়ে নীরব থাকার অভিযোগও উঠেছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিন জনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি বর্ষার আগেই অন্তত সড়কের কিছু অংশের কাজ শেষ করতে, যাতে মানুষের ভোগান্তি কমে। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুত মাঠপর্যায়ে তদন্ত, কাজের মান যাচাই এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version