ধলঘাটা প্রতিনিধি:
ধলঘাটার একমাত্র প্রধান সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে প্রবাসী মিজবাহ উদ্দীনের একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলেও ধলঘাটার মানুষ এখনও অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন নাজুক অবস্থা এই জনপদের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ধলঘাটার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা, কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক কাদায় পরিণত হয়। ফলে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ নিত্যদিনের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার পথেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিজবাহ উদ্দীন তার স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এসব প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজে-কলমে কিংবা বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি ধলঘাটার সার্বিক উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিভক্তি নয় সমন্বিত পরিকল্পনা ও একক নেতৃত্বই পারে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে। সচেতন মহল, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের প্রতি তিনি আন্তরিকভাবে আহ্বান জানান, যেন তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণে একযোগে কাজ করেন।
তার মতে, সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে আগামী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই অন্তত সড়কটি চলাচলযোগ্য করে তোলা সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে এবং জনসেবামূলক নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি প্রবাসে অবস্থান করেও ধলঘাটার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজে নিজের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ধলঘাটার এই সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, বরং এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে এখনই যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
