Sunday, 31 May, 2026

এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী::
মহেশখালীর উপকূলীয় মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ভাঙা বেড়িবাঁধ ঘিরে নতুন করে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। কোহেলিয়া নদীর পশ্চিমে এবং বঙ্গোপসাগর এর পূর্বে জেগে ওঠা প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই উপকূল ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ীর পশ্চিম পাশে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ থাকলেও এর মধ্যে প্রায় ১ কিলোমিটার অংশ এক দশকের বেশি সময় ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয় ও ফসলি জমিতে সাগরের পানি ঢুকে পড়া ঠেকাতে সর্বশেষ গত বছর জিও টিউব স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে সেই জিও টিউবও বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা বেড়িবাঁধের পাশে বসানো জিও টিউবের কোনো চিহ্ন নেই। জোয়ারের সময় ঢেউয়ের সঙ্গে সাগরের পানি ভাঙা অংশ উপচে পাশের ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ছে। এতে করে কৃষি জমি ও বসতভিটা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

মশরফ আলী সিকদার পাড়ার বাসিন্দা মাস্টার সাখাওয়াত হোছাইন বলেন, “জিও টিউব বিলীন হয়ে গেলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এবার আমন চাষ করতে পারব কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।”

তিনি কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের এমপি আলমগীর ফরিদের নিকট দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানান।

মাতারবাড়ী ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুল হোছাইন মোহাম্মদ তৈয়ব জানান, ভাঙা বেড়িবাঁধের কারণে সাইট পাড়াসহ আশপাশের অন্তত চারটি গ্রামে জলাবদ্ধতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ একর জমিতে আমন ধান চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম. আবু হায়দার বলেন, “গত বছর তিন দফায় লোকালয়ে পানি ঢুকে অন্তত ১০টি কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চাষিরাও দুশ্চিন্তায় আছেন তারা আদৌ চাষাবাদ করতে পারবেন কি না।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কিন্তু ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাদের মতে, প্রতি বছর অস্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাই এখন সময়ের

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version