নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বালু উত্তোলন ও বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ এনে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের অনুমোদন, বালুর মূল্য নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহানা শারমিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দায়ের করেন।
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান ও আর্থিক নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, সাধারণত সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে ঠিকাদার নিজস্ব অর্থায়নে ড্রেজিং, বালু উত্তোলন ও পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে। পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যয় পরিশোধ করে। কিন্তু আলোচিত প্রকল্পে বালুর বিক্রয়মূল্য থেকেই ড্রেজিং ব্যয় সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য রাজস্ব আয় হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা জনস্বার্থ ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত বালুর মূল্য নির্ধারণ, উত্তোলনের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি। এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ মূল্যায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
রিট আবেদনকারী আদালতের কাছে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও সিদ্ধান্তগুলোর বৈধতা পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির সম্ভাবনা, বালুর মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী সোহানা শারমিন বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের সম্পদ। এসব সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার অবশ্যই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং আইনসম্মত হতে হবে। রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তা বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আনা প্রয়োজন। জনস্বার্থে এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ রিট দায়ের করা হয়েছে।”
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামোগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চারের আশা করা হচ্ছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রিটের ওপর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় আসার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং আদালতের নির্দেশনার দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
