Friday, 19 June, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু হাজীর ছেলে আনোয়ারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী যুবক বর্তমানে সৌদি আরবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী সাকের উল্লাহ, দক্ষিণ মাইজপাড়া এলাকার মৃত জামাল হোছাইনের ছেলে। তিনি জানান, বাবাকে হারানোর পর পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় এলাকার পরিচিত ব্যক্তি আনোয়ার তাকে সৌদি আরবে ভালো চাকরি, বৈধ আকামা এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আনোয়ারের কথায় বিশ্বাস করে তিনি আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করেন। ওই টাকা আনোয়ারকে দেওয়ার পর ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি আরও দুইজনের সঙ্গে সৌদি আরব যান।

সাকের উল্লাহ জানান, বিদেশে যাওয়ার আগে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল সৌদি আরবে পৌঁছানোর সাত দিনের মধ্যেই আকামা (বাসস্থান ও কর্ম অনুমতিপত্র) এবং কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনজনের মধ্যে একজনকে আকামা দেওয়া হলেও বাকি দুইজনকে দীর্ঘ সময় কোনো আকামা বা কাজ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, “চার মাস পর্যন্ত আমরা কোনো কাজ পাইনি। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বাইরে বের হতেও ভয় লাগতো। অনেক সময় খাবারের টাকাও ছিল না। পরিচিতজনদের সহযোগিতা নিয়ে কোনোমতে দিন পার করেছি। বিদেশ বিভুঁইয়ে সেই সময়গুলো ছিল অত্যন্ত কষ্টের।”

অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘ চার মাস পর কিছু কাজের ব্যবস্থা করা হলেও আকামা দেওয়ার বিষয়ে বারবার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। প্রায় নয় মাস পার হয়ে গেলেও আকামা প্রদান করা হয়নি। একপর্যায়ে আনোয়ার আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং ওই টাকা দিলে আকামা করে দেওয়া হবে বলে জানান।

সাকের উল্লাহর দাবি, নির্ধারিত অর্থ দেওয়ার পরও তার কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং বিভিন্ন সময় নানা অজুহাত দেখিয়ে তাকে ঘুরানো হয়েছে। বর্তমানে তার আকামা না থাকায় তিনি বৈধভাবে কাজ করতে পারছেন না এবং আইনগত জটিলতার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, “আমি বারবার আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দিলেও পরে তিনি আমার ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেন। বর্তমানে আমার নম্বর ব্লক করে রেখেছেন। ফলে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত আনোয়ার কোনো সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হতে রাজি হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।

এদিকে, ধার-দেনা করে বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগে সাকের উল্লাহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ারের বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version