Saturday, 13 June, 2026

এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী।
মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে জাইকা কোম্পানির অর্থায়নে সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়ক ও ড্রেন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নতুন বাজার আজিজিয়া মাদ্রাসা থেকে সিকদার পাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের কাজ করছে মেসার্স আরএফএল কোম্পানি কনস্ট্রাকশন, যা সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে কাজ শুরু হলেও শুরু থেকেই নকশা ও বরাদ্দ অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিশেষ করে ড্রেন নির্মাণে লোহার রড ব্যবহারে চরম অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত পরিমাণ ও মানের রড দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় রড কম দেওয়া হয়েছে, কোথাও রডের সঠিক কভার নেই, আবার কোথাও ঢালাইয়ের ভেতরে ফাঁক রয়ে গেছে। এসব ত্রুটি প্রকৌশলগতভাবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, নিয়মিত তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ড্রেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত রডের একটি অংশ গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের হাতে থাকা ছবিতে এসব অনিয়মের দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে তারা জানান।

ড্রেনটির স্থায়ীত্ব নিয়েও গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিম্নমানের সামগ্রী ও দায়সারা কাজের ফলে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানির চাপে ড্রেন ধসে পড়তে পারে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি ও সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়বে।

এলাকাবাসী আরও বলেন, উন্নয়নের নামে এ ধরনের অনিয়ম নতুন নয়। আগেও অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একই ধরনের দুর্নীতি বারবার ঘটছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, এই প্রকল্পের মান যাচাই ও তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কী ভূমিকা পালন করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে জড়িত ঠিকাদার, তদারকি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না।

এ বিষয়ে মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আবু হায়দার জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি সরাসরি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ সময় তিনি নির্মাণকাজের নকশা পর্যালোচনা করেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নকশা অনুযায়ী কাজ করছে বলে তাকে অবহিত করেছে।

তবে চেয়ারম্যান এসএম আবু হায়দার স্পষ্ট করে বলেন, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version