Thursday, 16 April, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক::
মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাই মাল সংগ্রহ ও পাচারের অভিযোগে আলোচিত একটি সিন্ডিকেটের প্রধান, একাধিক মামলার আসামি লিয়াকত আলীর তিনটি ড্রামট্রাক আটক করেছে কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষ। আটককৃত গাড়িগুলোতে প্রকল্পের চোরাই মালামাল বহন করা হচ্ছিল—এমন সন্দেহে গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।

সূত্র জানায়, এর আগেও মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে চোরাইকৃত মালামাল পাচারের সময় পেকুয়া ও বাঁশখালী থানার আওতায় লিয়াকত আলীর একাধিক গাড়ি চোরাই মালামালসহ আটক হয়েছিল। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত ২০ জানুয়ারি মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পস্কো কোম্পানির মালামাল রায়াত এন্টারপ্রাইজের নামে বের করার সময় কোল পাওয়ারের নিরাপত্তাকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তিনটি ড্রামট্রাক আটক করা হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কালারমার ছড়ার বাসিন্দা লিয়াকত আলী উত্তর নলবিলার চালিয়াতলী স্টেশনে ‘রায়াত এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ভাঙারি দোকান পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই দোকানের আড়ালেই তিনি একটি সংঘবদ্ধ চোরাই মাল পাচার সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন। এই সিন্ডিকেট মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ আশপাশের এলাকা থেকে বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে পাচার করে থাকে এবং তার দোকান ও গোডাউন থেকে প্রকল্পের চোরাই মাল উদ্ধার করে আইনশৃংখলা বাহিনী।

সূত্রে আরও জানা যায় পূর্বেও প্রকল্প এলাকা থেকে চোরাই মালামাল পরিবহনের সময় তার গাড়ি আটক এবং পুলিশের হাতে জব্দ হওয়ার একাধিক নজির রয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লিয়াকত আলী কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষের হাতে তিনটি গাড়ি আটক হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, আটককৃত গাড়িগুলোতে কোনো চোরাই মালামাল নেই।

এ বিষয়ে মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল হুসাইন বলেন, “পস্কো কোম্পানির মালামাল ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি গাড়ি নিয়ে আমাদের সন্দেহ হয়। তাই যাচাইয়ের জন্য গাড়িগুলো আটক করা হয়েছে। যদি চোরাই মালামাল পাওয়া যায়, তাহলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় প্রকল্প এলাকায় চোরাই মাল পাচার সিন্ডিকেটের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version