Thursday, 16 April, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক::
১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষণা করার প্রস্তাব তিনিই দিয়েছিলেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সমর্থনে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, “আমাদের মধ্যে তৎকালীন সিনিয়র অফিসার ছিলেন মেজর মীর শওকত, যিনি পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন। তিনি নিজেই লিখিতভাবে উল্লেখ করেছেন—এই অফিসার, অর্থাৎ কর্নেল অলি আহমেদ, জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে বলেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যদি সেদিন জিয়াউর রহমানকে দেওয়ানহাট থেকে সরিয়ে না আনতাম, তাহলে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাকে হত্যা করে কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। ইতিহাসের এই অংশ অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করতে চায়।”

নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের বিদ্রোহী অফিসার হিসেবে উল্লেখ করে কর্নেল অলি বলেন, “এটাই আমার জীবনের শেষ যুদ্ধ। প্রথম যুদ্ধ করেছিলাম আপনাদের স্বাধীন করার জন্য, তখন আমি ক্যাপ্টেন অলি আহমেদ। আমিই প্রথম বিদ্রোহ করেছিলাম। আমার আগে কেউ বিদ্রোহ করতে পারেনি।”

ডকুমেন্টারি প্রমাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমার কাছে সব লিখিত দলিল আছে। আমি পিএইচডি গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছি। সেই নথিপত্র আর্মি হেডকোয়ার্টারেও সংরক্ষিত আছে এবং এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পাওয়া যায়। সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা আছে—২৫ তারিখ রাতে, অর্থাৎ ২৬ মার্চের শুরুতে, ক্যাপ্টেন অলি আহমেদ ৮ম বেঙ্গল নিয়ে বিদ্রোহ করেন। এই নথিটি জিয়াউর রহমানের নিজের হাতের লেখা।”

এ সময় তিনি বিএনপির একটি অংশের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপির কিছু অশিক্ষিত লোক জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে নিয়ে ঠাট্টা করছে। তারা ইতিহাস বোঝে না, রাজনীতি বোঝে না। সারাদিন চাঁদাবাজি করাই তাদের কাজ।”

পথসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, “আপনারা হামিদুর রহমান আযাদের ওপর আস্থা রাখুন। তিনি আগামীর রাষ্ট্রনায়কদের একজন হবেন, মন্ত্রিসভার সদস্য হবেন। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। আমি যেদিন বিএনপি ছেড়েছি, সেদিন থেকেই তাদের রাজনৈতিক কবর রচনা শুরু হয়েছে। দালালদের সরকার এই দেশে আর প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না।”

সভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় মানে শুধু একজন প্রার্থীর জয় নয়, এটি মহেশখালী–কুতুবদিয়ার মানুষের বিজয়, ইনসাফের রাজনীতির বিজয় এবং বাংলাদেশের বিজয়। আমরা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

পথসভায় জামায়াতে ইসলামী, এলডিপিসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version