এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী
ভিজিএফের চাল বিতরণে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লোপাট ও কাটছাঁটের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ আলমগীর মুহম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন, গুদাম থেকে জনপ্রতিনিধিরাই চাল মেপে নেবেন এবং সেই মাপেই উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেবেন। কোনোভাবেই আট বা নয় কেজি নয় ঠিক দশ কেজি চালই দিতে হবে।
তিনি বলেন, “ভিজিএফের চাল গরিব মানুষের অধিকার। এই অধিকার এক কেজিও কম দেওয়া মানে চুরি। যারা চুরি করবে, তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা হারাবে।”
এমপি আলমগীর ফরিদ আরও জানান, শুধু নির্দেশনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবেন না। তিনি নিজে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে চাল বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। কোথাও অনিয়ম, কার্ড লোপাট বা পরিমাণ কম দেওয়ার প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বছরের পর বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা পর্যায়ে চাল বিতরণে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কিছু জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বোঝাপড়ার মাধ্যমে দশ কেজির চাল থেকে দুই কেজি কেটে আট কেজি বিতরণ করা হতো। এই অনিয়ম যেন এক ধরনের “স্বাভাবিক নিয়মে” পরিণত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল আর্থিক দুর্নীতি নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্য কেটে নেওয়া মানে রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় ফ্রি ভিজিএফ কার্ডই উপকারভোগীর হাতে পৌঁছায় না। কার্ড লোপাট করে সেই চাল বাজারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়। ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে, আর সুবিধাভোগীরা হয়ে উঠছে আরও শক্তিশালী।
এ বিষয়ে এমপি আলমগীর ফরিদ বলেন,
“কার্ড লোপাট মানে সরাসরি মানুষের পেটে লাথি মারা। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
এমপি আলমগীর ফরিদের এমন সরাসরি ও কঠোর অবস্থানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তাদের আশা, এই তদারকি যদি নিয়মিত ও বাস্তবমুখী হয়, তাহলে চাল চুরির পুরনো সংস্কৃতি ভাঙা সম্ভব।
সচেতন নাগরিকদের মতে, নীতি, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলেই কেবল ভিজিএফসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা ফিরবে।
অনিয়মকারী প্রতিনিধিদের ছাড় দেওয়া মানে গরিব মানুষের অধিকার অগ্রাহ্য করা। নৈতিকভাবে এটি ব্যর্থতা, রাজনৈতিকভাবে এটি ক্ষমতার অপব্যবহার। তাই নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া বিকল্প নেই।
এমপি আলমগীর ফরিদের ঘোষণাকে যদি বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া যায়, তবে শুধু ভিজিএফ চাল বিতরণ নয়, স্থানীয় প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থাও নতুন করে গড়ে উঠবে। এমন নেতৃত্বই মানুষের আস্থা ফেরাতে পারে এবং সমাজে ন্যায় ও শৃঙ্খলার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
