Thursday, 16 April, 2026

মহেশখালী প্রতিনিধি::
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের হামলায় ওয়ার্ড় বিএনপি’র সভাপতিসহ ৩জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দুপুর দুইটার দিকে ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিকটিম পরিবারের অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, মাইজপাড়া সড়কের পাশে আহত বিএনপি নেতা ফোরকানের ক্রয়কৃত জায়গায় জোরপূর্বক স্থাপনা তৈরি করতে চায় সন্ত্রাসী কাটা রফিক ও তার লোকজন। খবর পেয়ে বিএনপি’র নেতা ফোরকান ঘটনাস্থলে গিয়ে কেন তার ক্রয়কৃত জায়গায় স্থাপনা তৈরি করছে তা জানতে চায়। ফোরকান তার নিজ জায়গায় কোন ধরনের স্থাপনা না করতে নিশেদসহ বাঁধা প্রদান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অতর্কিত ভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতা ফোরকানের উপর হামলা করেন।

সেখানে আগে থেকে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করা কাটা রফিক ও তার ভাই আবু হুরাইরা প্রকাশ আবু ডাকাত, মৃত কফিলের পুত্র তারেক, তার ভাই সৌরভ, মৃত নাজেম উদ্দিনের পুত্র ছাত্রলীগ নেতা বাবু সহ আগে থেকে উৎপেতে থাকা রফিকের সাঙ্গ পাঙ্গরা মিলে বিএনপি নেতা ফোরকানের উপর হামলা করে।

এদিকে ফোরকানকে এলোপাথাড়ি হামলা করতে দেখে তার বড় ভাই ঝাপুয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ আক্কাস ও ভাগিনা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের নেতা তৌহিদুল ইসলাম মিশুক দৌড়ে এসে ফোরকানকে বাঁচাতে আসেন। এসময় হামলাকারী কাটা রফিক ও স্বজনরা তাদের উপরও হামলা করেন। এতে ইউনিয়ন শ্রমিকদল নেতা মিশুক ও ফোরকানের বড় ভাই আক্কাস কেও ব্যাপক মারধর করে।

সন্ত্রাসীদের হামলায় কালারমারছড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোঃ ফোরকানের মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও আঘাত গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর ও কালারমারছড়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা হামলাকারী রফিক উদ্দিন প্রকাশ কাটা রফিক ও আবু প্রকাশ আবু ডাকাতের নেতৃত্বে ৭/৮ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালায় বলে জানান ভিকটিম ফোরকান ও তার পরিবার।

জানা যায়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, এ সূত্রে তারা বিভিন্ন সময় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে স্থানীয়দের জুলুম নির্যাতন, জমি দখলসহ অনেক ব্যাক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করতো।

এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন বিএনপি ও জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও হামলার মতো ঘটনায় জড়িত ছিলেন। প্রায় ১৭ বছর ধরে তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষসহ সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার পরও সন্ত্রাসী রফিক ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আহত ফোরকানের পরিবার। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপি ও স্থানীয়রা।

এব্যাপারে মহেশখালী থানার ওসি মোঃ আব্দুস সুলতান জানান, হামলার বিষয়টি আমি এখনো অগত নয়। ভিকটিমের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version