নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় পুকুরে ডুবে সামিয়া নামের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কালালিয়াকাটা এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত সামিয়া কালালিয়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সকালে বাড়ির পাশেই সমবয়সী কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে ওঠে সামিয়া। দুপুরের দিকে প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা করতে সে বাড়ির অদূরে কালালিয়াকাটা মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। প্রথমে অন্যান্য শিশুরাও তার সঙ্গে পানিতে নামে বলে জানা গেছে।
একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পুকুরের গভীর অংশে চলে গেলে সামিয়া হঠাৎ তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা বিষয়টি বুঝতে না পেরে কিছু সময় পরে তাকে খুঁজতে থাকে। পরে তাকে কোথাও দেখতে না পেয়ে স্থানীয়দের খবর দেয়।
খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পুকুরে তল্লাশি শুরু করেন। প্রায় ১৫-২০ মিনিট চেষ্টার পর স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় পানির নিচ থেকে উদ্ধার করেন। এসময় তার শরীরে কোনো সাড়া না পেয়ে দ্রুত মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামিয়ার স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে কালালিয়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার বাড়িতে ছুটে যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, “সামিয়া খুব শান্ত স্বভাবের ও মেধাবী ছাত্রী ছিল। তার এমন অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
উল্লেখ্য, গ্রামাঞ্চলে অবহেলা ও সচেতনতার অভাবে প্রায়ই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
