এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী।
দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী অঞ্চল। এখানে নির্মিত হয়েছে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের অবদান রাখছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়-যে এলাকায় দেশের জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, সেই এলাকার বাসিন্দারাই নিয়মিত বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরে পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে ঘরোয়া কাজ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমে এই পরিস্থিতি জনদুর্ভোগকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
স্থানীয় বাজার, দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফ্রিজ, ফ্রিজার ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নির্ভর ব্যবসাগুলো প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে না পেরে বিপাকে পড়ছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ বাড়ছে। ফেসবুকে মহেশখালীর বাসিন্দা আজিজ সিকদার লিখেছেন, “মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের জমিজমা ও জীবিকা নষ্ট করে গড়ে উঠেছে, অথচ আমরা বিদ্যুৎ পাই না-এটাই সবচেয়ে বড় বৈষম্য।” তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে অনেকেই নিজেদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছেন।
মহেশখালী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়া এবং কিছু এলাকায় পুরনো ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও লাইন সমস্যা, ট্রান্সফরমারের সীমাবদ্ধতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দেশের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও নিজ এলাকায় সেই সুবিধা না পাওয়া চরম হতাশাজনক। তাদের দাবি, অন্তত স্থানীয় চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হোক এবং দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হোক।
স্থানীয়দের প্রশ্ন-যেখানে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, সেখানে মাত্র ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা কি এতই কঠিন?
এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

