এম.এ.কে.রানা◾
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিছবাহ উদ্দিন মজীদি। তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গ্রাম আদালতের একাধিক অধিবেশনে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আর্থিক লেনদেন, ক্ষুদ্র মারামারি, সামাজিক বিরোধসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতামত গ্রহণের পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।
প্যানেল চেয়ারম্যান মিছবাহ উদ্দিন মজীদি বলেন, গ্রাম আদালতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ের ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত ও সহজভাবে নিষ্পত্তি করে মানুষের ভোগান্তি কমানো। সাধারণ মানুষ যেন থানা বা আদালতে দীর্ঘদিন ঘুরতে না হয়, সে লক্ষ্যেই গ্রাম আদালত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনার ফলে বিচারপ্রার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন এবং অর্থ ও সময় উভয়ই সাশ্রয় হচ্ছে। একই সঙ্গে থানা ও আদালতের মামলার চাপও অনেকাংশে কমছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধেরও অবসান ঘটে। এতে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত গ্রাম আদালতের বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। আগে যেসব ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলত, এখন সেগুলোর দ্রুত সমাধান হচ্ছে। ফলে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমেছে এবং তারা সহজেই ন্যায়বিচার পাচ্ছেন।
এদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান মিছবাহ উদ্দিন মজীদির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ হবে এবং আনুষ্ঠানিক আদালতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তারা এই জনবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান।
