এম.এ.কে.রানা◾
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকায় চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কের উভয় পাশে ড্রেন নির্মাণের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। পরে তড়িঘড়ি করে ইটের গাইডওয়াল নির্মাণ করা হলেও কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এতে পুরো প্রকল্পের মান ও নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ শত শত মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণ হওয়ায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
এলাকার বাসিন্দা কফিল উদ্দীন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “সিকদার পাড়ার উন্নয়ন—নাকি জনগণের সঙ্গে প্রহসন? উভয় পাশে ড্রেন দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। পরে তড়িঘড়ি করে ইটের গাইডওয়াল নির্মাণ করা হলো। অথচ সপ্তাহ পেরোতেই দেয়ালে বড় বড় ফাটল। এটাই কি উন্নয়নের নমুনা? জনগণের ট্যাক্সের টাকায় যদি নিম্নমানের কাজ হয়, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে? উন্নয়নের নামে লোক দেখানো কাজ নয়, চাই টেকসই ও মানসম্মত নির্মাণ। সিকদার পাড়ার মানুষ কোনো দয়া নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার চায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং কাজের মান নিশ্চিত করা হোক। উন্নয়নের নামে প্রহসন নয়, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই। বরং ভালো কাজ চাই। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি দেয়ালে ফাটল ধরে, তাহলে বুঝতে হবে কোথাও না কোথাও গাফিলতি হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় আমরা দেখতে চাই না।”
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, “ড্রেন না থাকলে বর্ষাকালে পানি জমে পুরো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না হলে কয়েক বছরের মধ্যেই আবার রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এখনই প্রকল্পটি পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম অভিযোগ করে বলেন, “নির্মাণকাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটি তদন্ত করা দরকার। দেয়ালে এত দ্রুত ফাটল ধরা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। আমরা চাই প্রকৌশলীরা সরেজমিনে এসে কাজের গুণগত মান পরীক্ষা করুন।”
গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা চলাচল করে। নিম্নমানের কাজ হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই দায়সারা কাজ নয়, টেকসই উন্নয়ন চাই।”
আরেক প্রবীণ বাসিন্দা ছৈয়দ আহমদ বলেন, “সরকার উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে যদি ঠিকভাবে কাজ না হয়, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না। যারা অনিয়ম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের পুরো নির্মাণকাজ একটি নিরপেক্ষ কারিগরি কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে বাস্তব অবস্থা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে নিম্নমানের অংশ ভেঙে পুনরায় মানসম্মতভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা কিংবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্যের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের আশা, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা হবে টেকসই, মানসম্মত এবং জনস্বার্থ রক্ষাকারী।
