Tuesday, 28 July, 2026

এ.আর. রিটন, মাতারবাড়ি:
জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বিরূপ প্রভাবে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাইরারডেইল এলাকার জালিয়াপাড়ায় ভয়াবহ উপকূলীয় ভাঙন দেখা দিয়েছে। একসময় সমুদ্রনির্ভর জেলে পরিবারের বসবাসে গড়ে ওঠা এই জনপদে এখন প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি ও উত্তাল ঢেউয়ে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও কৃষিজমি। এতে গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে সাইরারডেইলের জালিয়াপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এই এলাকায় জোয়ারের পানির উচ্চতা আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি সহজেই লোকালয়ে প্রবেশ করছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক ভাঙনে শত শত ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদী ও সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়েছে। বারবার ঘরবাড়ি স্থানান্তর করতে করতে অনেক পরিবারের আর নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গাও অবশিষ্ট নেই।

জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “আমার বাপ-দাদার ভিটা এখন সমুদ্রের পেটে। তিনবার ঘর সরিয়েছি। এখন আর সরানোর মতো জমিও নেই, টাকাও নেই। আমাদের দেখার যেন কেউ নেই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাতারবাড়িতে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মেগা প্রকল্প, বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব উপকূলীয় ভাঙনের ওপর পড়ছে বলে তারা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল অস্থায়ীভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব নয়। উপকূল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার পাশাপাশি কার্যকর বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাইরারডেইলের ভাঙন এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে বৃহৎ পুনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

উপকূলীয় এই জনপদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং জলবায়ুজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version