এ.আর.রিটন,মহেশখালী◾
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম এলাকায় নতুন একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ (Floating Storage and Regasification Unit-FSRU) টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড-এর দাখিল করা প্রস্তাব সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উত্থাপিত প্রস্তাবের আলোকে কুতুবজোমে একটি আধুনিক ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯(২) ও ১০৭(২) বিধি অনুযায়ী সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নীতিগত অনুমোদনের ফলে এখন প্রকল্পটির কারিগরি, আর্থিক, বাণিজ্যিক ও চুক্তিগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, বিনিয়োগ কাঠামো, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত কাজ করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা এবং আবাসিক খাতে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। নতুন এ ভাসমান টার্মিনাল চালু হলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এলএনজি সংরক্ষণ, পুনঃগ্যাসীকরণ এবং জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় সরবরাহের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মহেশখালী বর্তমানে দেশের অন্যতম কৌশলগত জ্বালানি হাবে পরিণত হয়েছে। এখানে ইতোমধ্যে এলএনজি টার্মিনাল, গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো এবং একাধিক বৃহৎ জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এর সঙ্গে কুতুবজোমে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল যুক্ত হলে দেশের জ্বালানি অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতের গ্যাস চাহিদা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটির পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

