এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হেলাল (৩৩) নামে এক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে কালারমারছড়া বাজারসংলগ্ন ফকিরজুম পাড়া ও নয়াপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সুলতানের নির্দেশে কালারমারছড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোশারফের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এতে এএসআই মনিরসহ সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সন্দেহভাজন অবস্থানে তল্লাশি চালানো হয় এবং এক পর্যায়ে হেলালকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হেলাল কালারমারছড়ার ফকিরজুম পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং এখলাছুর রহমানের ছেলে।
গ্রেপ্তারের সময় তার দেহ তল্লাশি করে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক ও একটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, এসব অস্ত্র দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল সে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করছিল এবং ওই বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে তার ভূমিকা ছিল।
পুলিশ জানায়, হেলালের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য এর আগে কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও প্রতিবারই সে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ধরা সম্ভব হয়নি।
অভিযান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “কালারমারছড়ার ফকিরজুম পাড়া পাহাড়, নোনাছড়ি ও আঁধারঘোনা পাহাড় এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এসব দুর্গম এলাকায় তারা ঘাঁটি গেড়ে বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত করছে।”
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত চিরুনি অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত হেলালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

