নিজস্ব প্রতিবেদক::
বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) অধীন মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্ভিসিং কার্যক্রমের জন্য শর্তসাপেক্ষে স্থানীয় প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহনা ইন্টারন্যাশনালকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। নির্ধারিত সব শর্ত, কারিগরি সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই-বাছাই শেষে মাতারবাড়ির মোহনা ইন্টারন্যাশনালসহ মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের মেরামত ও সার্ভিসিং কাজের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কয়লা আমদানি কার্যক্রম শুরু করলে, আমদানিকৃত কয়লার আনলোডিং, কোল হ্যান্ডলিং সিস্টেমের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ জনবল সরবরাহের মাধ্যমে মোহনা ইন্টারন্যাশনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এছাড়া, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের শর্তানুযায়ী ফিলিপাইন থেকে আমদানিকৃত কয়লা আনলোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রেন অপারেটর সরবরাহ করে মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সহায়তা করে প্রতিষ্ঠানটি। জরুরি ও সময়সংবেদনশীল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সম্ভাব্য উৎপাদন ও আর্থিক ক্ষতির হাত থেকেও রক্ষা করেছে মোহনা ইন্টারন্যাশনাল।
এ বিষয়ে মোহনা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আহসান উল্লাহ ফাহাত খান বলেন, তিনি ২০১৭ সাল থেকে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। টেন্ডারে উল্লেখিত সব শর্ত পূরণ করেই প্রতিষ্ঠানটি এই কাজের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পে কাজ করার পুরো সময়জুড়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাতারবাড়ির স্থানীয় জনগণকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে মেরামত ও সার্ভিসিং কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয়ভাবে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের মতে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়ায় একদিকে যেমন কাজের গুণগত মান ও গতি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও তা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

