এম.এ.কে.রানা::
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপির দীর্ঘ দুই যুগ ধরে চলমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্ব সংকটের অবসান হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই বিরোধ মীমাংসা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজার-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের পেকুয়ার নিজ বাসভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়। বৈঠকের পর শনিবার থেকে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকার দুই প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সঙ্গে তার নেতৃত্বগত বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে আসনটিতে দলীয় কার্যক্রম বিভক্ত অবস্থায় চলছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়। দলীয় বিভক্তির সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ সময় ধরে সাবেক এমপি আলমগীর ফরিদ নিজ অনুসারীদের নিয়ে আলাদা কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক এবং কুতুবদিয়া জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরীর নেতৃত্বেও পৃথক কর্মসূচি পালিত হতো। ফলে আসনজুড়ে বিএনপি কার্যত দ্বিধাবিভক্ত অবস্থায় ছিল।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদের মুখোমুখি হচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তবে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে বারবারই বেকায়দায় পড়তে হচ্ছিল বিএনপি প্রার্থীকে।
বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে এবং সালাহউদ্দিন আহমদের আন্তরিক মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের এই বিরোধের অবসান হয়েছে। এখন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব।”
দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই ঐক্য কক্সবাজার-২ আসনে বিএনপির নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে।

