এম.এ.কে. রানা, মহেশখালী:
মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে অসহায়, হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বড় পরিসরের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, ক্রীড়ানুরাগী ও ব্যবসায়ী ইঞ্জিনিয়ার আলী ছিদ্দিক আপন চৌধুরী।

‘মানবসেবার অঙ্গীকারে, প্রতিটি পরিবারের পাশে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি মাতারবাড়ীর প্রায় ৪ হাজার অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামীকাল ১০ মার্চ প্রথম ধাপে প্রায় ১২০০ পরিবারের মাঝে “পরিবার কল্যাণ কার্ড” বিতরণ করা হবে। একইসঙ্গে পবিত্র রমজান উপলক্ষে এসব পরিবারের জন্য ইফতার সামগ্রীও প্রদান করা হবে। এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দীর্ঘমেয়াদি এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম।

“পরিবার কল্যাণ কার্ড” প্রাপ্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানবিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এর আওতায় নিয়মিত প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, বিশেষ প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সহায়তা এবং বিভিন্ন সময়ে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যদ্রব্য প্রদান করা হবে। এছাড়া দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা খাতে সহযোগিতা, বই-খাতা ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদানসহ নানা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়াও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে এসব পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হবে, যাতে তারা উৎসবের আনন্দে সামিল হতে পারেন। স্থানীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইঞ্জিনিয়ার আলী ছিদ্দিক আপন চৌধুরী মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও স্থায়ী দাতা সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, খেলাধুলার প্রসার এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এর আগে তিনি মাতারবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, শীতবস্ত্র ও কম্বল প্রদান, দূর্যোগ ও বর্ষাকালে নিচু এলাকায় পানি বন্ধী পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ, রমজানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ, ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাতারবাড়ীতে এমন বড় পরিসরের মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে অসংখ্য দরিদ্র পরিবার উপকৃত হবে এবং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

