নিজস্ব প্রতিবেদক::
বিগত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ মতবিনিময় সভায় সারা দেশ থেকে আসা গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা অংশ নেন। এতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকার মরহুম বদর উদ্দিনের পরিবারও অংশগ্রহণ করে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ আয়োজনে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বেদনাবিধুর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। কেউ বাবাকে গুমের ঘটনায় হারিয়ে অনিশ্চিত ও একাকী শৈশবের গল্প বলেন, কেউ স্বামী হারিয়ে বছরের পর বছর অবহেলিত জীবনযাপনের কষ্টের কথা জানান। আবার কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও পৈশাচিক নির্যাতনের শিউরে ওঠা স্মৃতিচারণ করেন।
গত ১৬ বছর ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার এসব পরিবারের কষ্টের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্বজনদের কান্না, আহাজারি ও দীর্ঘশ্বাসে সভাস্থল ভারি হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগীদের আর্তনাদে মঞ্চে বসেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন ও রাতের অবসান ঘটেছে। দেশের মানুষ আবারও গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “একটি দুঃসময় আমরা অতিক্রম করেছি। এখনো অনেক সন্তান অপেক্ষায় আছে—হয়তো তাদের বাবা একদিন দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা আজও আশায় আছেন, তার সন্তান হঠাৎ করে বাড়ি ফিরে আসবে।”
সভায় উপস্থিত মরহুম বদর উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা বলেন, গুম প্রতিরোধে এমন কঠোর আইন প্রণয়ন করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।

