নিজস্ব প্রতিবেদক::
মাতারবাড়ীর বুক চিরে একসময় বয়ে যাওয়া প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ রাঙ্গাখালী খাল এখন কেবল মুখে মুখে উচ্চারিত একটি নাম। এক সময়ের সুগভীর ও প্রসিদ্ধ এই খালটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া আজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাঙ্গাখালী খালের প্রবেশ মুখ পুরোপুরি গ্রাস করেছে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রকল্পটি খালের একটি বড় অংশ দখল ও ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। খালের যে অংশটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, সেটিও বিভিন্ন স্থানে দখল ও ভরাটের কারণে কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জলমহাল হিসেবে রাঙ্গাখালী খালটি প্রতি বছর কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নানা কৌশলে এটি অবৈধভাবে দখলে রেখে আসছেন। এতে করে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য।
স্থানীয়দের দাবি, রাঙ্গাখালী খালের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা ইতোমধ্যে প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, মাছের প্রজনন ধ্বংস এবং জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় বর্তমান সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে মাতারবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গাখালী খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে খালটি উদ্ধার ও এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

