এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী।
মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে জোরেশোরে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আলোচনা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। চায়ের দোকান, অলিগলি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, কে হচ্ছেন মাতারবাড়ী ইউনিয়নের পরবর্তী চেয়ারম্যান?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তত ১৮ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ভোটারদের মুখে মুখে ঘুরছে। এর মধ্যে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছেন, আবার কেউ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানালেও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম. আবু হায়দার পুনরায় প্রার্থী হতে পারেন বলে তার সমর্থকদের মধ্যে জোর আলোচনা রয়েছে। তবে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। গত নির্বাচনে তিনি সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী রুহুলকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। যদিও তার শাসনামলে উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিশেষ করে নিজ ওয়ার্ডকেন্দ্রিক উন্নয়ন নিয়ে অন্য ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী রুহুলও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। সরকার পতনের পর বিভিন্ন মামলায় জড়িত থাকায় তিনি বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করছেন না। তবে তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক এবং পূর্বের জনপ্রিয়তা তাকে এখনো শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রাখছে। অনেকের মতে, তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহর নামও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে। তার আমলে উন্নয়ন নিয়ে সমালোচনা থাকলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং কিছু সেবামূলক কার্যক্রমের কারণে তার জনপ্রিয়তা কিছুটা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নেমেছেন সমাজসেবক ভেন্ডার রফিকুল ইসলাম। পেশাগত কারণে তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং গোষ্ঠীগত সমর্থন তার বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইভাবে সাবেক প্রার্থী নাসির উদ্দীন মোহাম্মদ বাবর চৌধুরীও ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়ার কারণে তাকে এবারও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার আলী ছিদ্দিক আপন চৌধুরী, রফিক উদ্দীন মানিক, এইচএম জসিম উদ্দিন এবং মাষ্টার সাখাওয়াত হোছাইন ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। সামাজিক, শিক্ষামূলক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।
এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন মামুনুল ইসলাম মামুন, ডাক্তার মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, মো. হোসাইন মাসুম, মুহাম্মদ সাহাব, হামেদ হোছাইন খোকা, এডভোকেট মিজবাহ উদ্দীন, আসিফ ইকবাল, জিএম মোনাফ উল্লাহ এবং মাওলানা মিনহাজুল আবেদীন কাদেরী। তাদের অনেকেই নীরবে বা প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত সংখ্যক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রার্থী সংখ্যা কমে আসতে পারে। দলীয় সমর্থন, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গোষ্ঠীগত প্রভাব এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আসন্ন মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। শেষ পর্যন্ত কারা মাঠে থাকবেন এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করবেন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন মাতারবাড়ীবাসী।

