অনলাইন ডেস্ক::
দেশের মসজিদগুলোকে নিবন্ধনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার, যেখানে যার খুশি মসজিদ স্থাপনেও আসতে পারে বিধিনিষেধ। আর ইমাম নিয়োগের ক্ষমতা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
নিয়োগকৃত এই ইমামদের সরকারি বেতন কাঠামোর অনুসরণে বেতন দেওয়ার সুপারিশও করা হচ্ছে, যাতে ইমামের মূল বেতন সরকারের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার সমান প্রস্তাব করা হয়েছে। ইমামের সর্বোচ্চ যে বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই বেতন পান উপসচিবরা।
তবে এই বেতন সরকার বহন করবে না, মসজিদ স্থাপনকারী বা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষই এই ব্যয় বহন করবে, যাদেরকে আবার ইমাম ছাড়াও মসজিদের অন্য কর্মীদের আবাসন এবং খাবারের ব্যবস্থাও করতে হবে।
এসব বিধান রেখে মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা (সংশোধন)-২০২৫ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নীতিমালাটি যে কোনো সময় প্রজ্ঞাপন আকারে অনুমোদন পেতে পারে, যাতে মসজিদের উন্নয়নের জন্য যানবাহন বা রাস্তাঘাটেও চাঁদা আদায় করা যাবে না বলে উল্লেখ আছে।

এই খসড়ায় বিদ্যমান মসজিদ পরিচালনা কমিটিকেও সরকারি দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা আছে। নিজ ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষণ করতে হবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মসজিদ এলাকার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, প্রতিবন্ধী বা বিকলাঙ্গ পরিসংখ্যান, বেকার যুবক, বিধবাসহ অসহায় এতিমদের পরিসংখ্যান রাখতে হবে।
কমিটির করা এই তালিকার আলোকে সরকার যাকাতসহ নানা ভাতা দেবে—এমন কথাও লেখা আছে এতে।
খসড়ায় বলা আছে, মসজিদ কমিটি ইচ্ছে করলেই ইমামকে চাকরিচ্যুত করতে পারবে না। আকস্মিকভাবে চাকরি থেকে বাদ দিতে চাইলে দুই মাসের অগ্রিম বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. সালাম খান দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “দেশের সকল মসজিদকে একটি কাঠামোতে নিয়ে আসাই সরকারের উদ্দেশ্য। সকল মসজিদের হালনাগাদ তথ্য জরিপের মাধ্যমে সরকার সংরক্ষণ করতে চায়। এ জন্য একটি ডেটাবেজ করা হবে।
“আলেম-ইমামরা যেন ন্যূনতম সম্মান এবং কুরআন-হাদিসের আলোকে মসজিদে সঠিক বয়ান রাখতে পারেন, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।”
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “খসড়া করা নীতিমালাটি ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার হালনাগাদ রূপ। আগের নীতিমালায় অনেক কিছুই ছিল না। সংশোধনীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সন্নিবেশ করা হচ্ছে।”
বাংলাদেশ ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক পঞ্চগড় জেলার সিঅ্যান্ডবি মোড় বড় মসজিদের খতিব আহমদুল্লাহ মাসরুর দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিন এবং মসজিদের সঙ্গে যারা খেদমতে জড়িত, তাদের জন্য নিশ্চয়ই কল্যাণকর হবে। এর দ্বারা স্বীকৃত আইনি কাঠামোর ভিতর যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে দেশের মসজিদগুলো।”
বিপুল পরিমাণ বেতনের প্রস্তাব
নীতিমালায় ইমাম থেকে শুরু করে মসজিদের নৈশ প্রহরীদের বেতনের একটি কাঠামোর কথা বলা আছে। ইমামদের বেতন সরকারি বেতন কাঠামোর নবম থেকে চতুর্থ গ্রেডে হবে বলে এতে উল্লেখ আছে।
নবম গ্রেডে মূল বেতন আসে ২২ হাজার টাকা আর চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার টাকা। খতিবের বেতন-ভাতার বিষয়টি আলোচনার ভিত্তিতে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে খসড়ায়।
এতে বলা হয়েছে, সিনিয়র পেশ ইমাম চতুর্থ, পেশ ইমাম ষষ্ঠ, ইমাম নবম, প্রধান মুয়াজ্জিন দশম, মুয়াজ্জিন একাদশ, প্রধান খাদেম পঞ্চদশ, খাদেম ষোড়শ এবং নিরাপত্তা প্রহরী বিংশতম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রাপ্য হবেন।
বাংলাদেশে সরকারি কর্ম কমিশনের অধীনে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে বা প্রথম শ্রেণির চাকরিতে প্রবেশের পর বেতন হয় নবম গ্রেডে। জেলা প্রশাসক বা উপসচিবরা বেতন পান পঞ্চম গ্রেডে।
বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা আনুমানিক সাড়ে তিন লাখ বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চল এবং প্রত্যন্ত এলাকার মসজিদের সংখ্যাও কম নয়, যেগুলোর আয় সীমিত।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, দেশের কোনো কোনো এলাকার মসজিদের আয়ের উৎস নেই বললেই চলে। সেসব মসজিদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালার গ্রেড মেনে ইমামদের বেতন দেওয়া আসলে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
ইমামের জন্য প্রস্তাবিত চতুর্থ গ্রেডটিও জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্তা জেলা প্রশাসকের গ্রেডকেও ছাড়িয়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নীতিমালা প্রস্তুত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কমিটির সদস্য জাতীয় ইমাম সমিতি সভাপতি এবং রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকার মসজিদে বায়তুল হারামের খতিব কাজী আবু হোরায়রা দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “নীতিমালা এটি কেবল একটি ধারণা, এটি মানতে বাধ্য করা হচ্ছে না। অর্থাৎ সবাইকেই যে এই হারে বেতন দিতে বাধ্য করা হবে, তা নয়।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. সালাম খান বলেন, “দেশের সব মসজিদে গ্রেড বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে না—কথাটি কিছুটা সঠিক। কিন্তু অনেক বিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবস্থাপনায় মসজিদ নির্মাণ করে। তখন সরকারি অন্যান্য চাকরিজীবীদের গ্রেডের সঙ্গে ইমামসহ বাকি জনবলের গ্রেড মিলানো নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। এই নীতিমালা সেই জটিলতা দূর করতে সহায়ক হবে। তবে নীতিমালা মানতে কেউ বাধ্য নয়।”
বেতন-ভাতা ছাড়াও ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমের থাকা-খাওয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে কমিটিকে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. সালাম খান বলেন, “এই নীতিমালা একজন ইমামকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রদান নিশ্চিত করবে। কমিটি কাউকে খেয়াল-খুশিমতো ‘চাকরি নেই’ ভয়ের মধ্যে রাখতে পারবে না।”
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “অনেক সময় ইমাম যখন সুদ-ঘুষ বা আইনবিরুদ্ধ কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলেন, তখন কমিটির কোনো কোনো সদস্য এটিকে নিজের গায়ে মাখিয়ে ইমামের ওপর অসন্তুষ্ট হন। আর এতেই ইমামের চাকরি ‘খাওয়ার’ অবস্থা তৈরি হয়। এই নীতিমালা জারি হলে একতরফা চাকরিচ্যুতির আশঙ্কা কমে আসবে।”
যেভাবে নিয়োগ
খসড়ায় ইমামসহ মসজিদের জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে দুই ধরনের পদ্ধতির কথা বলা আছে।
সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মসজিদ কমিটি ৭ সদস্যের একটি কমিটি করে দেবে। এই কমিটি সুপারিশ ছাড়া কোনো নিয়োগ করা যাবে না।
মসজিদ কমিটির সভাপতি হবেন নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক। কমিটিতে তিনজন ‘বহিরাগত’ আলেম এবং মসজিদ কমিটির দুজন সদস্য যুক্ত থাকবেন। সরকারপক্ষে থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা বা উপজেলার অফিস প্রধানের মনোনীত সদস্য।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হবেন নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব।
ইমাম বা জনবল নিয়োগের জন্য কমপক্ষে ১৫ দিন আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো পদোন্নতি। যেমন মুয়াজ্জিন পদোন্নতি পেয়ে হবেন প্রধান মুয়াজ্জিন, ইমাম পদোন্নতি পেয়ে হবেন পেশ ইমাম বা সিনিয়র পেশ ইমাম।
নিয়োগ নিয়ে কোনো আপত্তি উত্থাপিত হলে আপিল করার সুযোগও রাখা হয়েছে নীতিমালায়। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথম ধাপে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই কমিটির কাছ থেকে সুষ্ঠু সমাধান না পেলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের কমিটির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আপিলের ক্ষেত্রে এই কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
যেখানে নির্মাণ করা যাবে মসজিদ
খসড়া নীতিমালায় কোথায় কোথায় মসজিদ নির্মাণ করা যাবে, তাও উল্লেখ করা আছে।
এতে বলা আছে, ১. শরিয়াসম্মত স্থান হতে হবে। মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্য ওয়াকফ, দান, ক্রয় অথবা আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বরাদ্দ করা জমিতে মসজিদ নির্মাণ করতে হবে।

এর ব্যতিক্রম হলে নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদ করা যাবে এবং সেই মসজিদ নির্মাণ কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
মসজিদের নিবন্ধন কেন
দেশে কতগুলো মসজিদ আছে, সেই বিষয়টি ধারণাভিত্তিক। সরকারের কাছে কোনো তালিকা নেই। করোনাভাইরাস মহামারীর সময় প্রতিটি মসজিদের অনুকূলে সরকার ৫ হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়ার সময় এ নিয়ে বেশ জটিলতায় পড়তে হয়েছিল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “মসজিদগুলোর একটি পরিসংখ্যান সরকারের হাতে থাকা দরকার।”
যেভাবে নিবন্ধন
নীতিমালার ৩০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় মসজিদের নিবন্ধন হবে।
নিবন্ধনের সময় মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ফরম অনুসরণ করতে হবে। নীতিমালা কার্যকরের তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন শুরু করা যাবে। তবে ১৫ দিন সময় হাতে রেখে নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়ে সাধারণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
এতে আরও বলা হয়েছে, মসজিদের ঠিকানা ও প্রকৃত সংখ্যার তালিকা ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সংরক্ষিত থাকবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনে এই তালিকা সংরক্ষণে রাখতে পারবে।
তবে এই নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলের ঘাটতি আছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে। প্রতিষ্ঠানটির উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্পের আওতায় অস্থায়ী হিসেবে ফিল্ড সুপারভাইজার পদবির একজন কর্মচারী ছাড়া আর কোনো জনবল নেই।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম অবশ্য মনে করেন, এতে সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, “মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হলে তখন সবকিছু সমন্বয় করেই কাজ করা হবে।”
মসজিদ কমিটিতে চাপবে সরকারি দায়িত্ব
নীতিমালায় মসজিদ কমিটিকে উপাসনালয়ের বাইরেও বেশ কিছু দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা আছে।
নির্ধারিত রেজিস্ট্রারে মসজিদ এলাকার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, প্রতিবন্ধী বা বিকলাঙ্গ পরিসংখ্যান, বেকার যুবক, বিধবাসহ অসহায় এতিমদের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করতে হবে। এই রেজিস্ট্রারের তালিকার ধরেই যাকাতসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবসেবা কাজ আঞ্জাম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে নীতিমালার ২২ অনুচ্ছেদের ১ (জ) উপ-অনুচ্ছেদে।
মসজিদ কমিটিতে যারা থাকবেন
নতুন নীতিমালার বিধানমতে যে কেউ ইচ্ছা করলেই আর মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হতে পারবেন না। সদস্য হওয়ার জন্য ভিন্ন কোনো যোগ্যতার কথা না থাকলেও নিয়মিত নামাজ আদায়কারী হতে হবে। এ ছাড়া শরিয়ত অনুসরণ ও অনুশীলনকারী হওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁও নাখালপাড়া এলাকার মসজিদে বায়তুল আতিক জামে মসজিদ কমিটির একজন সদস্য দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “এই নীতিমালা জারি হলে মসজিদ পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
তিনি বলেন, “নিয়মিত নামাজি না হয়েও স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত অনেকে মহল্লায় নিজেদের কর্তৃত্ব জাহির করার জন্য মসজিদ কমিটিতে যুক্ত হন। তারা কেবল ‘এলাকার দেওয়ানগিরি’ করার জন্য প্রভাব খাটিয়ে মসজিদ কমিটিতে টিকে থাকতে চান।”
খসড়া নীতিমালায় বলা আছে, মসজিদ পরিচালনা কমিটির মেয়াদ হবে দুই বছর। সাধারণ প্রক্রিয়ায় প্রস্তাবের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা সম্ভব না হলে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন সদস্যরা। সাধারণ মুসল্লিদের সমন্বয়ে থাকবে ভোটার তালিকা।
সাধারণ সভার সিদ্ধান্তে কমিটির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো যাবে। তবে কোনো কারণে কমিটি ভেঙে গেলে বা মেয়াদ শেষ হলে ৫–৭ জনের সমন্বয়ে এডহক কমিটির মাধ্যমে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।
নীতিমালায় মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ইমামকেও রাখার কথা বলা আছে। তবে নিজ স্বার্থযুক্ত সভার ক্ষেত্রে তিনি অংশ নিতে পারবেন না।
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর আহম্মদিয়া জামে মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল মজিদ দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “এই প্রক্রিয়া মসজিদের উন্নয়ন ও সেবা কাজকে অনেক স্বচ্ছ ও সহজ করবে। মুসল্লিরা কমিটির সদস্যদেরকে সবসময় না পেলেও ইমামকে পাওয়া সহজ হবে। যে কোনো সমস্যা সমাধান বা পরামর্শের ক্ষেত্রেও তাতে কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ হবে।”

