এম.এ.কে.রানা◾
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত চট্টগ্রামের আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) পর্যন্ত ৫৮.২০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প অবশেষে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ২৮ কিলোমিটার কমবে এবং যাতায়াতের সময় সাশ্রয় হবে প্রায় ৪৫ মিনিট।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৮৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির আওতায় আনোয়ারার কালাবিবির দীঘি থেকে শুরু হয়ে চকরিয়ার ঈদমনি পর্যন্ত বিদ্যমান ৫.৫০ মিটার প্রশস্ত সড়ককে উন্নীত করে ১০.৩০ মিটার প্রশস্ত আধুনিক আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পের চট্টগ্রাম অংশে ৩৬ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার অংশে ২২.২০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্ণফুলী টানেল হয়ে আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-চকরিয়া সড়কটি বর্তমানে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। এই সড়ক ব্যবহার করে বাঁশখালী ইকোপার্ক, বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত, বৈলগাঁও চা বাগান, নৌবাহিনীর সাবমেরিন ঘাঁটি, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গণ্ডামারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, কেইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াত করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংকীর্ণতা, যানজট এবং দুর্ঘটনা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলী টানেলের সঙ্গে সরাসরি চকরিয়া-বদরখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সংযোগ আরও সহজ হবে। এতে ঢাকা থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরগামী পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ হবে।
বর্তমানে কর্ণফুলী টানেল হয়ে মাতারবাড়ী পৌঁছাতে প্রায় ১৩১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হলেও নতুন সংযোগ সড়ক ব্যবহারের ফলে এ দূরত্ব কমে দাঁড়াবে প্রায় ৯১ কিলোমিটারে। ফলে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ এবং প্রায় এক ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৩০.৮৬ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, সড়ক বাঁধ প্রশস্তকরণ, ৪৪.৩৮৯ কিলোমিটার পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ, ৪৮.০৪৮ কিলোমিটার সারফেসিং, ১০.১৫২ কিলোমিটার আরসিসি পেভমেন্ট নির্মাণ, ৩০টি বাস-বে, ৭৮টি নতুন আরসিসি বক্স কালভার্ট, ১৩টি কালভার্ট প্রশস্তকরণ, প্রায় ১০ কিলোমিটার ইউ-ড্রেন নির্মাণ, ১৫ কিলোমিটার সসার ড্রেন ও সিসি ব্লক স্থাপন, ১২ হাজার বর্গমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল এবং ২ হাজার মিটার এমএস পাইপ প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে শিল্পায়ন, পর্যটন, বন্দর কার্যক্রম ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

