মহেশখালী প্রতিনিধি ::
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-০২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, যারা বছরের পর বছর নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার ও সমতার কথা বলে এসেছে, বাস্তবে তারাই এখন নির্বাচনী মাঠে নারীর উপর সহিংসতা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য—একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের প্রগতিশীল ও নারী-বান্ধব হিসেবে উপস্থাপন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কর্মী ও সমর্থকদের দ্বারা নারী কর্মীদের উপর হামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা শুধু অমানবিকই নয়, বরং নারীর প্রতি চরম অবমাননা ও অমর্যাদার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন কোনো স্লোগান, ব্যানার বা নির্বাচনী মুখোশ নয়। এটি হতে হবে বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে নারীর নিরাপত্তা, সম্মান, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে নারীর ক্ষমতায়নের সব দাবি অর্থহীন হয়ে পড়ে।”
নারীর উপর সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে সহিংসতা আরও বাড়বে এবং নারীরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত হবে।
পথসভায় তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীদের উপর যদি এভাবে ধারাবাহিক হামলা ও সহিংসতা চলতে থাকে, তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এতে করে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর সংশয় সৃষ্টি হবে এবং সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, বিশেষ করে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এ সময় তিনি মহেশখালী–কুতুবদিয়া আসনের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকেই অবাস্তব ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তারা নির্বাচিত হলে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছানোতেই ব্যস্ত থাকে, সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের প্রকৃত উন্নয়ন চাইলে সৎ নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। মহেশখালী–কুতুবদিয়াকে একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন বলে উল্লেখ করেন।
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা মাস্টার নজরুল ইসলাম, কামরুল হাসান, রশিদ মেম্বারসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। সভায় বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

