এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী◾
কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আংশিকভাবে চালু হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। পেট্রোবাংলা বলছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।
পেট্রোবাংলার সদস্য (অপারেশন) ড. রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার টার্মিনালটি চালুর পর জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। রাতের মধ্যে সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ৭৫০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এই ভাসমান টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই দেশে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাসের স্বল্পচাপ ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, দেশের অপর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটিও আগে থেকেই বন্ধ থাকায় ওই সময়ে কার্যত একটি সচল টার্মিনালের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এতে এলএনজি পুনর্গ্যাসীকরণ সক্ষমতা কমে গিয়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়।
এদিকে আরেকটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। শুক্রবার থেকে কার্গোটি খালাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এটি থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মহেশখালীর টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। এতে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক খাতের চলমান গ্যাস সংকট অনেকটাই লাঘব হতে পারে।

