এ.আর.রিটন,মহেশখালী◾
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমির ভেতর সড়ক নির্মাণের সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রুলে সংরক্ষিত বনভূমির ভেতরে ইতোমধ্যে নির্মিত সড়কের পাকা অংশ কেন অপসারণ করা হবে না এবং বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। পরিবেশ সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী ও রুমানা শারমিন শান্তা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রিটে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় মহেশখালীতে ৪ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সংরক্ষিত বনভূমির ভেতর দিয়ে গেছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের আপত্তি সত্ত্বেও পাহাড় কেটে ও গাছ অপসারণ করে নির্মাণকাজ চলছিল বলে রিটে অভিযোগ করা হয়।
রিটকারীর দাবি, ১৯৫৭ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী মহেশখালীর ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর ভূমি সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষিত। বন আইন ও বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী বন অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ আইনসম্মত নয়। সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদেও বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

