ডেস্ক রিপোর্ট::
দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুত থাকা এবং নতুন উৎপাদন মৌসুম শুরুর মুহূর্তে এক লাখ টন লবণ আমদানির সরকারি সিদ্ধান্তকে দেশীয় লবণখাতের জন্য মারাত্মক হুমকি আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া–মহেশখালী) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে লবণের কোনো ঘাটতি নেই—এ কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যেই স্পষ্ট। এমন বাস্তবতায় উৎপাদন মৌসুমের শুরুতেই বিদেশ থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত দেশীয় লবণচাষিদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, উৎপাদনের শুরুতে বাজারে আমদানিকৃত লবণ ঢুকে পড়লে দেশীয় লবণের দাম ধসে পড়বে। এতে লবণচাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন এবং স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদনে আগ্রহ হারাবেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো মৌসুমের উৎপাদনে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আজ লবণচাষিরা যদি ক্ষতির আশঙ্কায় উৎপাদন কমিয়ে দেন, তাহলে ভবিষ্যতে দেশে লবণের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তখন আবার আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে দেশ, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভরশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার লবণচাষি ইতোমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার অস্থিরতার কারণে চরম সংকটে রয়েছেন। এই সময়ে আমদানির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তাদের ওপর নতুন করে সর্বনাশ নেমে আসবে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত মূলত একটি নির্দিষ্ট আমদানিকারক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার শামিল। এটি দেশের লবণচাষি ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে চরম অবিচার।
তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এক লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় লবণ সংগ্রহ ও বিপণন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদন ধ্বংস করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। লবণচাষিদের বাঁচাতে এবং ভবিষ্যৎ লবণ সংকট এড়াতে হলে এই আমদানি সিদ্ধান্ত এখনই প্রত্যাহার করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

