এম.এ.কে.রানা, মহেশখালী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) সংসদীয় আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ধানের শীষ প্রতীকের আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে হ্যাটট্রিক জয় অর্জন করলেন।

নির্বাচনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার মোট ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহেশখালীর বিশাল ভোট ব্যাংকই মূলত ধানের শীষের বিজয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দুই উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার সব ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলক বেশি। কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যায় ভোটারদের।
নির্বাচন চলাকালে বিচ্ছিন্ন কিছু উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে ছিল পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ যৌথ বাহিনীর কঠোর নজরদারি। কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ ও মোবাইল টিমের টহল ছিল জোরদার।
মহেশখালী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, সামগ্রিক মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা মিলিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর ফরিদ পেয়েছেন মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদ (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জিয়াউল হক দুই উপজেলা মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৬৩০ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এর মধ্যে মহেশখালীতে তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৮১৮ এবং কুতুবদিয়ায় ৮১২ ভোট। জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহাবুবুল আলম পেয়েছেন মোট ৭৫০ ভোট এবং ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী রোকনুজ্জামান পেয়েছেন ৩১৩ ভোট।
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপরই মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিজয় মিছিল ও সমাবেশ করেন। অনেক স্থানে সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। বিজয় মিছিলে ধানের শীষের পক্ষে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ।
ভোটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহেশখালী উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮০ হাজার ৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৭০ জন। উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৮৬টি এবং ভোটকক্ষ ৫৪৮টি।
অন্যদিকে, কুতুবদিয়া উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ৫৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৪ হাজার ২০৫ জন এবং নারী ভোটার ৪৯ হাজার ৩৮৩ জন। এখানে ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৮টি এবং ভোটকক্ষ ২১৫টি। দুই উপজেলা মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪৪ জন।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, “সব কেন্দ্রেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ এবং ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ শেষে বেসরকারিভাবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।”

