এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী◾
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মগডেইল এলাকায় কহিনুর আকতার নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত কহিনুর আকতার স্থানীয় মগডেইল এলাকার বাসিন্দা আবু বক্করের কন্যা এবং সৌদি প্রবাসী বশির আহমদের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে একই এলাকার বশির আহমদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে বশির আহমদ জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রবিবার এশার নামাজের পর কহিনুর আকতার তার দুই সন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে নিজ কক্ষে ছিলেন। এ সময় তার ননদের স্বামী, স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী হাসেম, বাড়িতে আসেন। একপর্যায়ে তিনি কহিনুরকে বকাঝকা করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিজের কাছে নিয়ে নেন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর সন্তানরা মাকে দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। একপর্যায়ে কহিনুরের সাত বছর বয়সী ছেলে পাশের একটি কক্ষে গিয়ে তার মাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে উড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্বজনরা ছুটে এসে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে মহেশখালী থানায় নিয়ে যান।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত এবং পরিস্থিতি দেখে তাদের কাছে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে মনে হয়নি। তাদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং পরিবারের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাহের মিয়া বলেন, আত্মহত্যার সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কহিনুর আকতারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

