এম.এ.কে.রানা◾
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি ইউনিট প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা পর পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রকৌশলীদের মেরামত কার্যক্রম শেষে ইউনিটটি চালু করা হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাজ্জাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার সকাল ১১টার দিকে কেন্দ্রের একটি ইউনিটে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ত্রুটির কারণে ওই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রকৌশলীরা দ্রুত ত্রুটির কারণ শনাক্ত করে মেরামতের কাজ শুরু করেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে সন্ধ্যার দিকে কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হলে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। বর্তমানে ইউনিটটির উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে একটি ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কয়েক ঘণ্টার জন্য ওই ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ ছিল।
একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় ওই সময় কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। তবে অপর ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত ছিল। ত্রুটিগ্রস্ত ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।
মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোর অন্যতম বড় প্রকল্প। মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ একর জমির ওপর কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রটিতে দুটি ইউনিটে ৬০০ মেগাওয়াট করে মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে কেন্দ্রটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সঙ্গে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লা পরিবহন অবকাঠামোরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সমুদ্রপথে কয়লা পরিবহন করে কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়।
হঠাৎ করে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও প্রকৌশলীদের দ্রুত তৎপরতায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামত করা সম্ভব হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ার পর কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে উৎপাদনে কোনো সমস্যা নেই।

