এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী◾
টানা ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার উপকূলীয় দুই ইউনিয়ন মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পূর্বাভাস ছাড়াই সৃষ্ট এ বন্যায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হন। রান্নার উপকরণ, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হঠাৎ বন্যা দেখা দেওয়ায় কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।

এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত মাতারবাড়ি ২×৬০০ মেগাওয়াট আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।

কোম্পানির উদ্যোগে ইতোমধ্যে মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নের প্রায় ৭০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে এসব ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে তিন ধরনের প্যাকেজের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এসব খাদ্য ও স্বাস্থ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল- চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আলু, পেঁয়াজ, লবণ, দিয়াশলাই, মোমবাতি, চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, ওরস্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ত্বক সুরক্ষার ক্রিমসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গত মানুষের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ও বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসামগ্রীও সরবরাহ করা হচ্ছে।

সিপিজিসিবিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক দায়বদ্ধতার অন্যতম অংশ। স্থানীয় মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ত্রাণ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় প্রশাসন, প্রেস ও মিডিয়া এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। টিম এলিজা, ত্রান বাস্তবায়ন কমিটির সকল সদস্য ও সহযোগী সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিও বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোও এগিয়ে এলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হবে।

