এম.এ.কে.রানা, মহেশখালী◾
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে টানা ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে দ্বিতীয় ধাপে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)।

সিপিজিসিবিএলের মাতারবাড়ি ২×৬০০ মেগাওয়াট আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রধান প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ) (অতি. দা.) ত্রাণ কার্যক্রমের সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে তাদের হাতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সাইরার ডেইল এলাকার জালিয়াপাড়া, রাজঘাট ও মগডেইল এলাকার বন্যাদুর্গত শতাধিক পরিবারের মাঝে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ প্যাকেজে ছিল চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আলু, পেঁয়াজ, লবণ, চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, দিয়াশলাই, মোমবাতি, ওরস্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ত্বক সুরক্ষার ক্রিম এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

সিপিজিসিবিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বন্যাদুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। সে কারণে খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা উপকরণও ত্রাণের সঙ্গে বিতরণ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সিপিজিসিবিএলের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অন্যতম অংশ। স্থানীয় জনগণের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ত্রাণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় প্রশাসন, প্রেস ও মিডিয়া এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে টিম এলিজা, ত্রাণ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য, সহযোগী সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদেরও বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ত্রাণপ্রাপ্ত স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন এভাবে এগিয়ে এলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

