এম.এ.কে.রানা,মহেশখালী।
মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়ন ঐতিহ্যবাহী ও শত বছরের পুরোনো একটি জনপদ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানে গড়ে উঠেছে মানুষের বসতি, পারিবারিক বন্ধন এবং জীবনসংগ্রামের অসংখ্য গল্প। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে এখনো অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে এই এলাকা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধলঘাটার মানুষ বছরের পর বছর ধরে একটি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, টেকসই সড়ক ও আধুনিক অবকাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন। বর্ষা মৌসুম এলেই কাঁচা ও ভাঙাচোরা সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে ওঠে, ফলে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
প্রতিবার নির্বাচন সামনে এলেই চিত্রটা বদলে যায়। প্রার্থীরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নামেন। তারা নতুন রাস্তা নির্মাণ, পুরনো সড়ক সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট উন্নয়নসহ নানা আশ্বাস দেন। এতে করে সাধারণ মানুষ আবারও আশাবাদী হয়ে ওঠেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি গুলো আর বাস্তবতার মুখ দেখে না এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনের সময় যেসব জনপ্রতিনিধি এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চান, তাদের অনেককেই পরে আর এলাকায় সক্রিয়ভাবে দেখা যায় না। উন্নয়ন কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অনেকেই জনসম্পৃক্ততা কমিয়ে দেন। অথচ তারা চাইলে গঠনমূলক সমালোচনা, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং জনগণের সমস্যা তুলে ধরার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ধলঘাটার অনুন্নয়নের পেছনে শুধু নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই নন, বরং অনির্বাচিতদের নিষ্ক্রিয়তাও একটি বড় কারণ। দুই পক্ষের মধ্যেই কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ধলঘাটার উন্নয়নে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো একটি টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নেও প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।
এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর মধ্যে এখন একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আগামী নির্বাচনেও কি তারা একই প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি শুনবেন, নাকি এবার সত্যিকার অর্থে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
ধলঘাটাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করে এই জনপদকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটাবে।

