নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশখালী:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা এক পলাতক আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে মহেশখালী থানা পুলিশ অভিযান জোরদার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মানবপাচারসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি কাশেম (পিতা: মোহাম্মদ সোলতান ওরফে মাম্মদ)কে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল। গ্রেপ্তারের পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা হাতকড়াপরা আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, হামলায় কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শফিউল আলমের নেতৃত্বে একদল লোক অংশ নেয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কুতুবজোম বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হায়দার বলেন, “ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশের ওপর হামলা এবং হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযান চলছে।”
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশি অভিযানে নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

