নিজস্ব প্রতিবেদক::
মহেশখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাস্টার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও প্রশাসনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী দিনভর শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন ছাত্র, অতিথি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে চলছিল।
এশার নামাজের সময় সাময়িক বিরতি ঘোষণা করা হলে অনেক দর্শক তাদের নির্ধারিত আসন ছেড়ে বাইরে চলে যান। ওই ফাঁকে খালি আসনগুলোতে বিভিন্ন অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক বসেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠানে ফিরে এসে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী কয়েকজন শিক্ষার্থী আসন না পেয়ে শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করেন।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তাদের বিদ্যালয়ের খালি বেঞ্চে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বেঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উত্তেজিত আচরণ শুরু করে।
পরিস্থিতি শৃঙ্খলার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাস্টার রফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা যেন বেঞ্চে বসে শান্তভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করে অথবা শৃঙ্খলা বজায় রেখে স্থান ত্যাগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ অমান্য করে ওই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বাইরে গিয়ে প্যান্ডেলের বাঁশ, পতাকার বেদি ও সাজসজ্জার কিছু অংশ ভাঙচুর চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় মিডিয়া কর্মী, অতিথি ও দর্শকদের অনেকেই এ ভাঙচুরের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর দায়িত্বহীন ও বিশৃঙ্খল আচরণের দায় কোনোভাবেই প্রধান শিক্ষকের ওপর চাপানো যায় না। বরং শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধান শিক্ষক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
এদিকে প্রধান শিক্ষক মাস্টার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচারকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অশান্ত করা এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে বিব্রত করতেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে অপপ্রচারকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক এবং ঐতিহ্যবাহী মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবী জানান।

